“আমার কাছে ওই দিনটি আমার একঘেয়ে রোজ নামচা জীবনের বাইরের এক অন্য পৃথিবীর দরজা খুলে দিয়েছিল” — Swagata Kayal

 

কলকাতা আবেগের শহর। এখানে ফুটবল শুধু খেলা নয়, মানুষের আবেগ।ফুটবল খেলার সাথে খুব বেশি পরিচয় ছিলনা ছোটো থেকে। মামাকে দেখেছি বা বাবার কাছে শুনেছি খেলা দেখতে যাওয়ার উন্মাদনা সম্পর্কে। তবে প্রতক্ষ্য করিনি। আমার ভালোবাসার মানুষটি ছোটো থেকেই ফুটবল পাগল।তার সাথে সম্পর্কে আসার পর তার ভালোলাগা ভালোবাসা গুলিকেও আপন করতে শুরু করি। তাই তার প্রথম ভালোবাসাকে তো আপন করা সবচেয়ে আগে দরকার ছিল। তার সাথেই প্রথম মোহনবাগান মাঠে যাওয়া শুরু।পরিবারের সবাই মোহনবাগান সমর্থক হলেও নিজে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে খেলা দেখা শুরু হয় আমার সেই প্রিয় মানুষটির হাত ধরেই। প্রথমদিন যখন যাই, এরম পরিবেশ দেখে যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেছিলাম।পাইরো, স্মোক এগুলোর প্রদর্শন এতদিন ওর মোবাইলে বা ফেসবুকে দেখেছি। এই প্রথম তা নিজে চোখে দেখলাম। তার সাথে পুরো ৯০ মিনিটের বেসক্যাম্পের চ্যান্ট। প্রত্যেকটি প্লেয়ারকে নিজের বাড়ির ছেলের মত করে সমর্থকরা উৎসাহ দিচ্ছে। আর প্লেয়াররাও যে সেটার যোগ্য, তা তারা প্রতিটি পদক্ষেপে প্রমাণ করে খেলা এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। আমার কাছে ওই দিনটি আমার একঘেয়ে রোজ নামচা জীবনের বাইরের এক অন্য পৃথিবীর দরজা খুলে দিয়েছিল।এরপর ধীরে ধীরে ওই পরিবেশ,ওই খেলা আর ওই উন্মাদনার প্রতি এক অদৃশ্য টান গড়ে উঠতে থাকে।এ এক অন্য জগৎ।টিম হারলে কেমন যেন এক তীক্ষ্ণ ব্যাথা অনুভব করি।তবুও মনের মধ্যে পরের ম্যাচের জন্য আরও বেশি আবেগ সঞ্চার হতে শুরু করে।ওই গ্যালারি শুধু শান্তিই দেয়নি,দিয়েছে কিছু ভরসা করার মত কাঁধও।এমন অনেক দাদাদিদিদের পেয়েছি যারা নিজের করে নিয়েছে খুব সহজেই।আস্তে আস্তে এক নতুন পরিবার পেলাম।আর এই টানেই আজও শত ব্যাস্ততার মধ্যেও খেলা দেখার নেশায় বারবার মাঠে ছুটে যাই।কারণ “আমাদের সূর্য মেরুন,নাড়ির যোগ সবুজ ঘাসে”