ভালবাসার শুরু – সাগ্নিক চক্রবর্তী

বাড়িতে বাবাকে দেখতাম খেলা দেখতে। ফুটবল…মোহনবাগান…ব্রাজিল…বিশ্বকাপ…
ছোট আমিও বসতাম বাবার সঙ্গী হিসেবে।বুঝতাম না।কিন্তু দেখতাম।আর বাবাও খেলাটার সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটাতেন নিয়মিত, বোঝাতেন পেনাল্টি,কর্ণার,ফ্রি-কিক, চেনাতেন ব্যারেটো, বাইচুং, লালম, জেমস্ কিংবা কাকা,রোবিনহো দের।
আস্তে আস্তে খেলাটাকে বুঝতে শিখলেও ক্লাস টু-থ্রির আমি এটুকু বুঝতে পেরেছিলাম শুরুতেই যে বাবার হৃদয়ে মোহনবাগান। এরপর আস্তে আস্তে ভাললাগার শুরু।
2006 এর বিশ্বকাপ বা পরের কলকাতা লিগ-আই লিগ-ফেড কাপ – আমার ফুটবল খেলাটাকে বোঝার শুরু সঙ্গে সঙ্গে ভালবাসারও।
তবে একটি সম্পূর্ণ ফুটবল ম্যাচ দেখেছিলাম প্রথম, অর্থ্যাৎ পুরো ম্যাচটা বসে দেখি 2008 এ।কলকাতা লিগ…ডার্বি। 
শনিবাসরীয় ম্যাচ।আমার খেলা দেখার সঙ্গী ,বলা ভাল আমি যাঁর খেলা দেখার সঙ্গী ছিলাম (এখনও আছি), বাবার অফিস।যেতেই হবে।দুদিন আগে থেকে খেলা দেখতে পারবে না একথা (বা হতাশা) শুনেই যাচ্ছি। যাই হোক, আমাকে বলেছিলেন “গোল হলেই আমাকে ফোন করবি।আর গোল হোক না হোক, হাফ টাইম হলে ফোন করবি।খবর দিতে থাকবি।” কোন দলের সমর্থক হিসেবে নয়, এই ‘আপডেট’ দিতেই সেদিন শুরু থেকে টিভির সামনে বসি। মোটামুটি দুদলই আক্রমণ করে বেশ কয়েকটা।তবে প্রথমার্ধের শেষের দিকে একটা কর্ণার থেকে বল একটু অসম্পূর্ণ ভাবে ক্লিয়ার করলে বক্সের প্রায় মাথা থেকে অ্যালভিটোর বিশ্বমানের গোল।স্কোর মোহনবাগান 0, ইষ্টবেঙ্গল 1
বাবাকে ফোন করে বলায় উত্তর “গোল শোধ হলেই জানাবি।”
মনে প্রাণে চাইতে থাকি, যেন একটু প্রার্থনাই করি যে গোল শোধ দিতেই হবে।সময় টা মনে নেই, তবে দ্বিতীয়ার্ধের পনের-কুড়ি মিনিটের মধ্যে একটা কর্ণার।হেড করতে উঠলেন লালমপুইয়া…হেড…গোল…1-1। চিতকার করে লাফিয়ে উঠলাম।উত্তেজনায় বাবাকে ফোন করতে ভুলে গেলাম, আরেকটা গোল দিতেই হবে।বেশী সময় নেয়নি লালম।আবার একটি কর্ণার থেকে একটি হেড প্রতিহত হলে ফিরতি বল গোলে ঠেলে লালমের দ্বিতীয় গোল… উত্তাল যুবভারতী…উত্তেজিত আমি।তবে এবার ফোনটা করি বাবাকে।খেলা ওই 2-1 এই শেষ হয়।
এরপর এই এগার বছরে কোন ডার্বি এক মূহুর্তের জন্যও বাদ দেই নি।ডার্বি কেন, মোহনবাগানের কোন খেলাই খুব অসম্ভব না থাকলে বাদ যায় না।
সেদিন বাবাকে আপডেট দিতে খেলা দেখতে বসেছিলাম।কিন্ত আজ মনে হয়, তাহলে কেন গোল শোধের পর ওই চিতকার! ওই উত্তেজনা! এগিয়ে যাওয়ার পর ওই শিহরণ! সত্যিই কি শুধুই বাবা বলেছিলেন বলেই খেলা দেখতে বসেছিলাম? না কি অচিরেই বালক আমার মনের মধ্য ‘মোহনবাগান’ নামটা বাসা বাধতে শুরু করেছিল? জানি না।তবে আস্তে আস্তে এই নামটাই হয়ে গেল “হৃদয়ে লেখা নাম”…আমার মোহনবাগান।
 
 
মেরিনার্স বেস ক্যাম্পকে সাধুবাদ এই উদ্যোগের জন্য।হয়তো শব্দসংখ্যা অতিক্রম করে গেল।কিন্তু প্রথমদিন ভাগ করে নিলাম ভালবাসার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা। জয় মোহনবাগান।