মোহনবাগান আমার প্রথম প্রেম একমাত্র ভ্যালেনটাইন — ইমন সামন্ত

“টিভি খুলে মোহনবাগান ম্যাচ বয়স তখন সবে নাইন, সেটাই আমার প্রথম প্রেম একমাত্র ভ্যালেনটাইন”. সেই ২০০৪ সাল থেকে আমি ভারতীয় ফুটবল ফলো করি জানি না কবে নিজের অজান্তেই মোহনবাগান স্থান পেয়েছে মনের মনিকোঠায়  ছোট থেকে ক্রিকেট এর পাশে ফুটবল খেলাটাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতাম  আমি গর্বের সাথে বলতে পারি পূর্ববঙ্গের কোনো পরিবারে জন্ম হলেও আমি মোহনবাগানকেই সমর্থন করতাম  কারণ, মোহনবাগান শুধুমাত্র জাতীয় ক্লাব বলে নয়, প্রতিনিয়ত আমার কাছে বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়  আমার মতে শুধু আমার নয় আরো কয়েক হাজার ভারতবাসীর বাঁচার তাগিদ মোহনবাগান  প্রতিনিয়ত ভালো কিছু কাজ করার উৎসাহ যোগায় সব ক্লাব এর ই খারাপ সময় আসে  মোহনবাগানও তার ব্যতিক্রম নয়, তা স্বত্বেও ভারতীয় ফুটবলের আকাশে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মতন বিরাজমান ১৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব  ছোট থেকে অনেক ফুটবলার  কে এই ক্লাব এর হয়ে খেলতে দেখেছি, তাদের মধ্যে যাদের নাম না বললেই নয় তারা হলেন হোসে রামিরেজ ব্যারেটো, সনি নর্দে, কাতসুমি ইউসা, এডুয়ার্ডো (ডু), ওডাফা ওকোলি, সংগ্রাম মুখার্জী, দেবজিৎ মজুমদার, দীপেন্দু বিশ্বাস, মেহতাব হোসেন, রহিম নবি, সুনীল ছেত্রী, ভাইচুং ভুটিয়া, ইশফাক আহমেদ, স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, সৌভিক চক্রবর্তী, মার্কোস পেরেইরা, পিটার ওডাফে, হাবিবুর রহমান, দীপক মন্ডল, লালকমল ভৌমিক, জেমস সিং, অসীম বিশ্বাস, মঞ্জু, মোহনরাজ এবং আরো অজস্র  আর আমার দেখা এই ক্লাব এর সেরা প্রশিক্ষকদের মধ্যে প্রথম সারিতে থাকবে অমল দত্ত, সুব্রত ভট্টাচার্য্য, সঞ্জয় সেন এবং করিম বেঞ্চারিফা  ১৯১১ সালে ব্রিটিশদের হারিয়ে আই এফ এ শিল্ড জয় পরাধীন ভারতকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল  পরে মুকুটে জুড়েছে আরো নানা পালক  সর্বাধিক বার ফেড কাপ জিতে ভারত সেরার মুকুট নিজেদের দখলে রাখা থেকে শুরু করে, প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে এ এফ সি চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ালিফাইং রাউন্ড অতিক্রম করা, প্রথম বাংলার ক্লাব হিসেবে আই লীগ ঘরে তোলা , সাথে রয়েছে ভারতের একমাত্র ক্লাব হিসেবে ২৫০ টিরও বেশি ট্রফি জয়  বর্তমানে এ এফ সি ক্লাব রাঙ্কিং এও যথেষ্ট ভালো পজিশন এ রয়েছে মোহনবাগান  চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এর সঙ্গে রাইভালরি টাও আমি বেশ ভালোই উপভোগ করি  আমার মতে ভবিষ্যতে মোহনবাগান যত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে ততই আরো শক্তিশালী হবে  মোহনবাগান এর কথা লিখতে গেলে সীমাবদ্ধ শব্দে লেখা একটু কঠিনই বটে, আজ এই বলে শেষ করলাম সবাই ভালো থাকবেন, জয় মোহনবাগান .